রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে, ভোট শুক্রবার

admin@ns
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩৩৮ বার পঠিত

অফিসার্স ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। মাত্র ২ দিন পর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রশাসনপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত এ নির্বাচন। যেখানে প্রশাসন ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তাদের অনেকে এ অভিজাত ক্লাবের সদস্য।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি সরকারি দফতরে রুটিন কাজের পাশাপাশি চলছে ভোট প্রচারণা। মুঠোফোনে ভোট চাওয়া ছাড়াও প্রার্থীরা সরাসরি হাজির হচ্ছেন ভোটারদের দফতরে।

সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রকাশ্যে না হলেও ভোটারদের অনেকে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান এবারও লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। প্রশাসন ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ।

এবারের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইব্রাহীম হোসেন খান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি অবসরে আছেন। সঙ্গতকারণে অফিসার্স ক্লাবে বেশি সময় দিতে পারবেন। তাছাড়া অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তার অসমাপ্ত কাজের পরিকল্পনা সমাপ্ত করতে চান।’ তিনি বলেন, ‘তার প্রচেষ্টায় ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। শিগগির কাজ শুরু হবে।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য- অফিসার্স ক্লাবে গুণগতভাবে সত্যিকার পরিবর্তন আনা, যা সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

তাছাড়া ভোটের আগে শুধু লাগামহীন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, সবার সহযোগিতা নিয়ে কার্যকরভাবে উন্নয়নমূলক পজিটিভ কিছু কাজ করে দেখাতে চাই।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সম্মানিত ভোটারদের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন ও উৎসাহ পাচ্ছি। আশা করছি, আধুনিক অফিসার্স ক্লাব গড়ার লক্ষ্যে ভোটাররা শুক্রবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না।’

সূত্র জানায়, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় কে বা কারা নানা রকম লিফলেট ছড়াচ্ছেন। যা ভোটে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ক্ষেত্রবিশেষে বিরূপ প্রভাবও ফেলছে। একজন প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে এ ধরনের লিফলেট মোটেই কাম্য নয়।’ কেউ আবার বলেন, ‘খারাপ কী, নির্বাচনের সুবাদে যদি কারও ভেতরের কদর্য দিক বেরিয়ে আসে, মন্দ কী। ভোটাররা ভালোমন্দ সবই জানুক। বুঝেশুনে যোগ্য প্রার্থী বেছে নিক।’

অফিসার্স ক্লাবের দ্বিবার্ষিক (২০২০-২১) নির্বাচনে অন্যান্য পদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ পদে লড়ছেন ৩ জন। এরা হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পুলিশ) ড. মো. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস।

যুগ্ম সম্পাদকের ৩টি পদের বিপরীতে নির্বাচন করছেন ৪ জন। এরা হলেন- রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) অতিরিক্ত সচিব মো. আজহারুল ইসলাম খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফেরদৌসী খান এবং পুলিশের ডিসি আসমা সিদ্দিকা মিলি।

এছাড়া ১৪টি সদস্য পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন। এরা হলেন- এমএ মজিদ, অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু, প্রফেসর আশরাফুন নেসা রোজী, নাশিদ রিজওয়ানা মনির, ডা. মো. আমিনুল ইসলাম, মো. মাহফুজার রহমান সরকার, স্থপতি মীর মনজুরুর রহমান, মো. মনছুরুল আলম, মুহাম্মদ আবদুস সবুর, প্রকৌশলী মো. আবু সাদেক, ড. মো. জাকেরুল আবেদীন (আপেল), মো. দেলওয়ার হোসেন, মুহাম্মদ সাকিব সাদাকাত, একিউএম নাছির উদ্দীন, মো. আখতারুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, শাহীন আরা মমতাজ (রেখা), মো. আলমগীর হোসেন, ডা. প্রদ্যুৎ কুমার সাহা, মো. আবিদুর রহমান, জেসমিন আক্তার, রথীন্দ্র নাথ দত্ত, অধ্যাপক ডা. আবদুল হানিফ (টাবলু), তানিয়া খান, সুরাইয়া পারভীন শেলী, জসীম উদ্দীন হায়দার, মোহা. আবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহজালাল, ফিরোজ আহমেদ খান, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মৌসুমী হাসান, ডা. কেএইচ মো. নিয়ামুল রুহানী, ডা. রত্না পাল, সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল এবং মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সোহাগ। সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ জন প্রশাসন ক্যাডারের।

অফিসার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। সুপরিসর জায়গাজুড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের পাশে এটি অবস্থিত। ইতিমধ্যে অফিসার্স ক্লাবে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এটি এখন খুবই দৃষ্টিনন্দন।

তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে। ওই সময় টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসনের প্রথম সারির চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান।

পদাধিকারবলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি। এ কারণে সভাপতি পদে কোনো নির্বাচন হয় না। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৫৪৮৩। যদিও সদস্য সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি।

সরকারি অনুদান ছাড়াও এর নিজস্ব আয়ের মধ্যে রয়েছে হল ভাড়া ও সদস্য চাঁদা। ১৭ জানুয়ারি ভোটের দিন বিকাল ৪টা থেকে ৫টা এজিএম। এরপর ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..