মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ছেলে ও মায়ের মৃত্যু

admin@ns
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩০৪ বার পঠিত

বরিশাল থেকে ঢাকাগামী কীর্তনখোলা-১০ এবং ঢাকা থেকে হুলাহাটগামী ফারফান-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে ৭ বছরের এক শিশু ও তার অন্তঃসত্ত্বা মা নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত দেড়টার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও চাঁদপুরের মাঝেরচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে ফারহান লঞ্চের মাস্টার আফতাব হোসেন ও সুকানী আ. হামিদকে হুলারহাট থেকে আটক করেছে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ এবং লঞ্চটিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

নিহতরা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের ভাণ্ডারিকাঠি গ্রামের রুবেল খান আব্বাসের স্ত্রী মাহমুদা (২৪) ও তার ছেলে মুমিন খান (৭)।

কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টার ম্যানেজার ঝন্টু জানান, ঢাকা থেকে হুলারহাটগামী ফারহান লঞ্চটি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের মাঝ বরাবর সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের নিচতলা ও দোতলার অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

জানা যায়, পরে ওই অবস্থায়ই দুর্ঘটনাকবলিত কীর্তনখোলা লঞ্চটি সোমবার সকাল ৯টায় মরদেহ নিয়ে ঢাকার সদরঘাটে এসে ভিড়ে। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়।

দুর্ঘটনার সময় মাহমুদা বেগমের স্বামী রুবেল খান লঞ্চে থাকলেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। রুবেল খান পরিবার নিয়ে ঢাকার মগবাজার মীরবাগ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি গাড়িচালক।

রুবেল খান জানান, এক সপ্তাহ আগে তারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। রোববার রাত ৮টার দিকে রবিশাল থেকে ঢাকায় আসার জন্য কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে উঠেন। লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

তারা লঞ্চের নিচতলায় মাঝ বরাবর বিছানা পেতে শুয়ে ছিলেন। গভীর রাতে বিকট শব্দ আর প্রবল ঝাকুনিতে ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এরপর তারা নিশ্চিত হন অন্য একটি লঞ্চ তাদের লঞ্চকে আঘাত করেছে।

রুবেল জানান, তার স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সংঘর্ষের ফলে তাদের বহনকারী লঞ্চের বিভিন্ন অংশ ভেঙে তার স্ত্রী ও ছেলের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। পরে ওই অবস্থায় লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে এসে ভিড়ে। সেখানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে দুই লঞ্চের চালক বা অন্য কারও দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কীর্তনখোলা লঞ্চের ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, ফারহান লঞ্চে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকার কারণেই কুয়াশার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কীর্তনখোলা লঞ্চের উপরিভাগের বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তলা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় নিহতদের নিয়ে লঞ্চটি চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় এসেছে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থার বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..