মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

নাটোরে গ্রাহকের লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছে বর্ষা কৃষি পার্কের মালিক

admin
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২০
  • ১১৩১ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোর সদর উপজেলার মাঝদিঘা এলাকায় গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে এক এনজিও মালিক। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাহকরা ফুঁসে উঠেছে। তারা সকাল থেকেই টাকার দাবিতে ভিড় করছে এনজিও মালিক কামরুল ইসলামের বাড়িতে। কিন্তু তার বাড়ি ও অফিস দুটোই তালা লাগানো। সমবায় সমিতির অনুমতি নিলেও ফিক্সড ডিপোজিটের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধন আছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। এদিকে তাকে সমবায় সমিতির নিবন্ধন দেয়ার কথা স্বীকার করে সমবায় কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেলে সরকারী বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তিনি। নাটোর সংবাদদাতা ইসাহাক আলীর প্রতিবেদন।
এলাকাবাসী জানান, নাটোর সদর উপজেলার মাঝদিঘা এলাকায় ‘হেলপ সোসাইটি’ নামে একটি এনজিও অফিস খুলে বসেন মাঝদিঘা পূর্বপাড়া গ্রামের ওলি গ্রামাণিকের ছেলে কামরুল ইসলাম। পরে পাশ্ববর্তী রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়া ও ঝলমলিয়াও দুটি অফিস খুলেন তিনি। দেন বেশ কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ। ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার নামে সঞ্চয় সংগ্রহ শুরু করেন। এছাড়া মোটা অঙ্কের লাভ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মেয়াদী ফিক্সড ডিপোজিট প্রকল্প খুলে টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। এদিকে বর্ষা মাঝদিঘা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি সমবায় সমিতি নামেও আরেকটি সমবায় মমিতি খুলেও টাকা সংগ্রহ করেন একই কায়দায়। বিশ্বস্ততা তৈরি করতে গড়ে তোলেন বর্ষা কৃষি পার্ক নামে একটি পার্ক যা উদ্বোধন করে জাঁকজমক ভাবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ঋণ নিয়ে এসে অফিস বন্ধ পেয়ে হঠাৎ করে গ্রাহকরা জানতে পারেন টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন এনজিও মালিক কামরুল ইসলাম। তার সাথে যোগাযোগ করে না পেয়ে টাকা সঞ্চয় এবং ফিক্সড ডিপোজিট রাখা গ্রাহকরা তার বাড়ি ঘিরে রাখে। টাকা হারানো নিঃস্ব গ্রাহকরা জানান তাদের দূর্দশার কথা। তারা তাদের সঞ্চয়ী টাকা ফেরত চান।
এ বিষয়ে নাটোর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, এধরনের কোন এনজিও নিবন্ধন তারা দেননি। পাশ বই দেখা যায় রেজিঃ নং এস-৭৫৯৭, হেলপ মানব শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সোসাইট। সোসাইটি এ্যাক্ট ১৮৬০ এর ২১ ধারা মতে নিবন্ধিত। তবে কোন সংস্থার নিবন্ধিত তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন খুব সম্প্রতি তারা বর্ষা মাঝদিঘা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি নামে একটি সমিতির নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তারা সদ্য নিবন্ধনকৃত সমিতি তারা এখনো কার্যক্রম শুরু করেছে বলে তিনি জানেন না। তাদের অন্য প্রকল্প দেখে নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল। টাকা আত্মসাতের কোন অভিযোগ তারা পাননি পেলে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কামরুল ইসরামের সাথে যোগাযোগ ও কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের দাবী পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতো না কামরুল।
দারিদ্র পীড়িত জনগোষ্ঠির জমানো সঞ্চয় ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগিদের।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..