রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন

নাটোরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আ’লীগ ও যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

admin
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২০
  • ৫৬৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় সালিশের নামে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- নাটোর পৌর আওয়ামী লীগের ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ও তেবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তেবাড়িয়া এলাকা থেকে বুধবার বিকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাগাতিপাড়া উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের মৃত আসাদুল ইসলামের ছেলে স্বপন ইসলাম ওরফে আশিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাটোর সদর উপজেলার পাইকপাড়া (পুটিয়াপাড়া এলাকার) এলাকার আলীমুদ্দিনের ছেলে আফজাল হোসেন গত সোমবার (১৫জুন) বিকেল ৫টার দিকে আটোরিকশায় যাত্রী নিয়ে পুঠিয়া বাজারে যান। যাত্রী নামিয়ে দোকানে বসে চা খেয়ে ফিরে এসে দেখেন তার অটোরিকশা চুরি হয়ে গেছে। পরে বুধবার বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর বাজার এলাকা থেকে একটি ব্যাটারিবিহীন অটোরিকশা নিজের অটোর পিছনে বেঁধে নিয়ে নাটোর শহরের দিকে আসছিলেন আশিক। আফজাল হোসেল খবর পেয়ে তার লোকজন নিয়ে নাটোর শহরতলির জংলি এলাকায় অবস্থান নেন। আশিক ওই অটোরিকশা নিয়ে জংলি এলাকায় পৌঁছালে আফজাল ও তার লোকজন তাকে আটক করে। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল ও যুবলীগ নেতা সাইফুল বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেন। সালিশে কাগজপত্র দেখে অটোরিকশাটি আফজালের বলে প্রমাণিত হলে তাকে অটোরিকশা ফেরত দেন। এসময় আফজাল তার ওই অটোরিকশার ব্যাটারি অথবা তার মূল্য দাবি করেন। কিন্তু আশিক কোন টাকা না দিলে তাকে পুলিশে দেওয়ার কথা বলে আফজালকে বিদায় করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল ও যুবলীগ নেতা সাইফুল মিলে আশিককে ধরে তেবাড়িয়া এলাকায় নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে তারা মোবাইল ফোনে আশিকের মা শেফা খাতুনের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা শেফা খাতুনকে টাকা দিয়ে ছেলে আশিককে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু শেফা খাতুন টাকার জোগার করতে না পেরে বিষয়টি নাটোর থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ বুধবার বিকালে তেবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশিককে উদ্ধার এবং নাজমুল ও সাইফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আসিকের মা শেফা খাতুন বাদি হয়ে নাজমুল ও সাইফুলসহ আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে অটো চুরির অভিযোগে আফজাল হাসেন বাদি হয়ে আশিককে অভিযুক্ত করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।
আশিক জানান, দুইদিন ধরে দয়ারামপুর বাজারের পাশে ব্যাটারিবিহীন অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে তিনি সেটি তার অটোর পেছনে বেঁধে টেনে নিয়ে নাটোর শহরে আসছিলেন। পথে তারা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে আটকে টাকা দাবি করেন।
নাটোর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দু’টি পৃথক মামলায় তিনজনেকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..