রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

নাটোরে নিরবেই চলে গেলো জাতীয় কবির মৃত্যু দিবস-সংস্কৃতি কর্মিদের ক্ষোভ

admin
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩৮ বার পঠিত

নাটোর, ২৭ আগস্ট-

কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নাটোরে নিরবেই চলে গেলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুদিবস। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল কর্মকর্তার দায়সাড়া উত্তর সরকারী নির্দেশনা না থাকায় আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি। এদিকে করোনা কারণে ভার্চুয়ালী বিভিন্ন সভা সেমিনার হলেও জাতীয় কবির মৃত্যু দিবসে নেই তেমন কোন আয়োজনও। তবে বিষয়টিতে মর্মাহত নাটোরের সংস্কৃতি কর্মিরা ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

মহাবিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও নাটোরে কোন ধরনের কোন আয়োজন করেনি সরকারী বা বেসরকারীভাবে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা ভাবে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংস্কৃতি কর্মি ও সচেতন ব্যক্তিরা।

তবে সরকারী কোন নির্দেশনা না থাকায় কোন আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন নেই বলে জানান জেলা শিল্পকলা একাডেমির নবযোগদানকারী জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল রাকিবুল বারী। তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি ছুটিতে আছি। তবে জাতীয় কবির প্রয়ান দিবসে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতার নির্দেশনা নেই তবে জন্ম দিবস পালনের ব্যাপারে সরকারী নির্দেশণা রয়েছে।  এদিকে জেলা  শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের দাবি, নির্দেশনা না থাকায় কোন অনুষ্ঠান করা হয়নি , নির্দেশনা থাকলে অবশ্যই পালন করা হতো।

তবে জাতীয় কবির মৃত্যু দিবসে সরকারী কোন আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন নাটোরের সংস্কৃতি কর্মিরা।

এ ব্যাপারে সাকাম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য রফিকুল ইসলাম নান্টু বলেন, জাতীয় কবির প্রয়ান দিবসে কোন রকমের আয়োজন থাকবে না এটা ন্যাক্কারজনক। এটা মেনে নেয়া যায়না অবশ্যই এটা নজরে আনা দরকার। ভবিষ্যতে এমন দিনে সরকারী ভাবে আয়োজন করার দাবি তার।

এদিকে সরকারী আয়োজন না থাকলেও বেসরকারী ভাবেও হয়নি কোন অনুষ্ঠান। অনেক আড়ম্বরতায় নাটোরে নজরুল মঞ্চ গঠন করা হলেও তারাও কোন উদ্যোগ নেয়নি দিবসটি পালনে। এ ব্যাপারে নজরুল মঞ্চের সভাপতি গোলাম কামরান বলেন, করোনার কারণে এবার করা যায়নি, ঘরোয়া ভাবে করার চিন্তা করলেও নানান সমালোচনা হবে এই আশংকায় করা যায়নি।

জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ নাটোরের সাধারণ খগেন্দ্র নাথ রায় বলেন,

আসলে করোনার কারণেই নজরুল ইসলামের মৃত্যু দিবস পালন করা গেলো না, আমরা রবীন্দ্রনাথেরও কোন প্রোগ্রাম এবার করতে পারিনি একই কারণেই, তবে করোনার প্রার্দূভাব কেটে গেলে এমন আয়োজন করা হবে।

সংস্কৃতি কর্মি নাটোর সংগীতাঙ্গনের সভাপতি আব্দুস সালাম  বলেন, এটা কাম্য না জাতীয় কবির মৃত্যু দিবস শিল্পকলা সুনজরে থাকবে না এটা কষ্টদায়ক। এমন উদাসিনতার তীব্র নিন্দা জানাই। ভবিষ্যতে এসব দিবস সরকারী ভাবে গুরুত্ব দিয়ে পালনের দাবিও করেন এই বাউল শিল্পী।

তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে জেলা প্রশাসক শামিম আহমেদকে সেল ফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় আবির্ভাব ঘটেছিল যে বিদ্রোহীর ; তা চিরতরে থেমে গিয়েছিল ঢাকার পিজি হাসপাতালের (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) কেবিনে, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্রে। এরপর তার ইচ্ছাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

#

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..