রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

নাটোরের মিতা হত্যা মামলায় আসামিকে গ্রেফতারে ব্যর্থ -ওসিকে শোকোজ

admin
  • আপডেট টাইম : সোমবার ২৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৮০৫ বার পঠিত

আদালত প্রতিবেদক : নাটোর জেনারের হাসপাতালের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) মিতা খাতুন (২৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে ব্যার্থ হওয়ায় নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ১১ ফেব্রুয়ারী আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আব্দুর রহমান সরদার। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন হাসপাতালের মালিক আজিজ মোল্লা। সোমবার দুপুরে এই আদেশ দেওয়ার সময় মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদ নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালতে ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন।
নাটোরের দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়,২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে আটটায় জেনারেল হাসপাতালের অর্থব্যবস্থাপক মিতা খাতুন ছুরিকাঘাতে খুন হয় ওই হাসপাতালের পঞ্চম তলায় নিজ কক্ষে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ ছিল না। তদন্তকালে পুলিশ হাসপাতালেল মালিক আজিজ মোল্লা ও সুইপার সাগর জামাদারকে গ্রেপ্তার করে। সাগর জামাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। হাসপাতালের মালিককে সম্পৃক্ত করে তিনি জবানবন্দি দেন। তবুও তদন্ত কর্মকর্তা মালিককে বাদ দিয়ে শুধু সুইপারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০ নভেম্বর বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না,তার ব্যাখ্যা তলব করেন। একই সঙ্গে অব্যাহতির সুপারিশ কেন মঞ্জুর করা হয়েছে,সে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদকে। একই সময় আদালত হাসপাতালের মালিক আজিজ মোল্লাকে ২৭ জানুয়ারীর মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওসি ওই নির্দেশ পালন করতে ব্যার্থ হয়েছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য সোমবার আদালত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামি ১১ ফেব্রুয়ারী মামলার পরবর্তী তারিখে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী জালাল উদ্দিন সোমবার সন্ধায় জানান,তিনি এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশ হাতে পাননি। আদেশ পেলে অবশ্যই ব্যাখ্যা দিবেন।
আদালতের আদেশ মোতাবেক তদন্তকারি কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক মাসুদ রানা ও অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদ গতকাল তাঁদের লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন,‘একজন নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সন্দেহপূর্ণভাবে বিচারে সোপর্দ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আসামি আজিজ মোল্লাকে অব্যাহিত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যা তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাগণও সমর্থন করেছেন।’ তবুও তিনি নবীন তদন্তকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদ তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন,‘এজাহারে কোন আসামির নাম উল্লেখ নাই। তদন্তকারি কর্মকর্তা তদন্ত করে সন্দিগ্ধ আসামি আজিজ মোল্লাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ায় এবং এ ব্যাপারে এজাহারকারি ,কোর্ট ইন্সপেক্টর কোনো আপত্তি না করায় সার্বিক বিবেচনায় সরল বিশ্বাসে আমি অভিযোগপত্র গ্রহণ করি। প্রথমবার বিধায় মহোদয়ের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের আদেশ দানের ক্ষেত্রে আরো বেশী সতর্ক থাকবো মর্মে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
আদালত উভয়ের ব্যাখ্যা নদীতে রাখার নির্দেশ দেন এবং এ ব্যাপারে আগামি ১১ ফেব্রুয়ারী মামলার পরবর্তী তারিখে আদেশ দেবেন বলে জানান।
গত ২১ নভেম্বর ‘প্রধান আসামিকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা তলব’ শিরনামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..