রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ন

নারদ নদ সম্পর্কে কিছু কথা

admin
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২০
  • ৫২৪ বার পঠিত

রেজাউল করিম খান

সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্টদের রিপোর্ট ও উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী- নারদ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাটোর জেলার একটি নদ। রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামনগরের কাছে পদ্মা থেকে বের হয়ে নাটোর থানার কাফুরিয়ার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে কান্দিপাড়ায় এসে মুছাখান নদীর সাথে মিশে যায়। এর সম্মিলিত প্রবাহ আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে জালালাবাদ, কসবা, লোটাবাড়িয়া, একডালা হয়ে নাটোর পৌরএলাকা অতিক্রম করে বড়হরিশপুরের ভেতর দিয়ে রতেনগোপাড়ার কাছে গুমানী নদীর সাথে মিলিত হয়। অনেকে বলেন, চারঘাটে বড়ালের উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণের ফলে নারদে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্ত শুকনো মৌসুমে বড়ালের তলদেশের তুলনায় পদ্মার পানি নীচে নেমে যায়। বড়ালের বেড লেভেল যেখানে ৯.২০ মিঃ সেখানে পদ্মার পানি শুকনো মৌসুমে নীচে গিয়ে পৌঁছায় প্রায় ৭.৩০ মিঃ পিডব্উলিডি লেভেলে। এই স্ট্রাকচারটি ভাঙ্গলেই কি পানি ঢুকবে বড়ালে ? ৭৫ পূর্ব সময়ে যেখানে শুকনো মৌসুমে পদ্মায় পানি প্রবাহ ছিল প্রায় ১৮০০ ঘঃ মিঃ/সেকেন্ড, সেখানে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার কথা ৭৮৩ ঘঃ মিঃ। ক্ষেত্র বিশেষ পাওয়া যাচ্ছে তারও কম। এক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি, প্রয়োজনে পাইপের মাধমে নদে পানি সরবরাহ, গুমানী নদীর কাছে নারদের ভাটিতে রেগুলেটর নির্মাণ করে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ, বর্জ্য ও দূষণ রোধ এবং পানি প্রবাহ অব্যাহত রেখে নদের বিভিন্ন অংশ মৎস্যজীবীদের নামে ইজারা দিলে তারাই বর্জ্য, দূষণ ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
অতীতে বর্ষা মৌসুমে বড়াল দিয়ে পানি ঢুকে কাদিরাবাদ (দয়রামপুর) ক্যান্টমেন্ট এলাকাসহ তার অববাহিকা অঞ্চলে প্রায়শই বন্যা হতো, ব্যাপক ফসল ও সম্পদ হানি ঘটাতো। এ কারণেই আশির দশকে চারঘাট রেগুলেটর তৈরী করা হয়। পরবর্তীকালে আটঘড়িয়া রেগুলেটর তৈরী করা হয় শুস্ক মৌসুমে বড়ালের ৪৮ কি.মি. অংশে পানি ধরে রেখে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য। রেগুলেটরের জন্য প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয় ঠিকই, তবে এতে নদী মরার তো কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে তা নেই। রেগুলেটর তৈরী করার জন্যে নদী মরে নি। শুকনো মৌসুমে প্রবাহ শুন্য হওয়া, পলি জমে ও চর পড়ে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, পত্তন ও অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রীজ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং দায়িত্ববান এজেন্সিগুলোর সমন্বয়হীনতার ফলে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবি, বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডার সমন্বয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা সম্পন্নের মাধ্যেমেই কেবল সুপরিকল্পিত উপায়ে বড়াল বেসিনের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনার অবসান ঘটাতে হবে, আমাদের জনসংযোগ বাড়াতে হবে, বিভিন্ন স্থানে নানা শ্রেণীর ও নানা পেশার মানুষ, চাকুরিজীবি, জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা করতে হবে।
নারদ বাঁচাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তেমন কোনও শক্তিশালী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। নাটোরবাসী সম্মিলিতভাবে তেমন কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে নি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা গত ৩০ বছরে বিস্তর লিখেছেন তাদের সাধ্যমত। তাদের পাঠানো প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রচারিত হয়েছে জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..