রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০০ অপরাহ্ন

বড়াইগ্রামে চতুর্ভূজ পরকীয়া প্রেমের বলি কৃষক মোবারক

admin
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২০
  • ৪৮১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের বড়াইগ্রামের ইকোরি গ্রামের প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরকীয়া করে স্বার্থ আদায়কারী আরিফা বেগমের চর্তুর্ভূজ পরকীয়া প্রেমের বলি কৃষক মোবারক। আলোচিত ওই নারীকে গ্রেফতারের পরই উন্মোচিত হয়েছে মোবারক হত্যাকান্ডের মূল রহস্য। পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে অন্য পরকীয়ার প্রেমিকদের সাথে একত্র হয়ে মোবারককে হত্যা করে আরিফা। এ ঘটনায় মোবারক পরপারে পাড়ি জমালেও পরকীয়ার বাকি ৩ প্রেমিক এখন আরিফার সাথে হাজতবাসে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংএ এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।


তিনি জানান, আরিফার চতুর্ভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন কৃষক মোবারক। গত ১৫ জুন বিকেলে উপজেলার ইকোরী বিলে গরু চড়াাতে গেলে তারই তিন বন্ধু রশিদ, জিহাদ, আসাদুল এবং প্রেমিকা আরিফা মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাটের জমিতে ফেলে রাখে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও ওই দিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ১৬ জুন নিহতের স্ত্রী রানী বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এই হত্যাকান্ডের আসামিদের ধরতে ৯ জনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাবাদে ঘটনার পরিকল্পনাকারী আরিফাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে। এর মধ্যে আরিফা, আসাদুল ও রসিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আর জিহাদও পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অনুশোচনায় ভুগছেন। িিতনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ জানায়, ইকোরি গ্রামের বৃদ্ধ কাচু খার যুবতী স্ত্রী আরিফা। স্বামীর অক্ষমতায় এলাকার যুবক ও পুরুষদের সাথে পরকীয়া প্রেম করে অর্থ উপায়েরও একটি পথ বেছে নেয়। একদিন মোবারক অন্য পুরুষের সাথে আরিফা আপত্তিবর অবস্থায় দেখে তা তার স্বামীকে জানিয়ে দেয়। বিষয়টি শুনে আরিফার স্বামী হাতে নাতে আরিফাকে ধরে ফেলে। এরপর থেকেই মোবারকের প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খোজে আরিফা। এই ফাঁদে ধরা দেয় মোবারকও। এর মধ্যেই অন্যদের সাথে মোবারককে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে আরিফা। তারই জেরে ১৫ জুন মোবারকের সাথে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভনে নির্জনে দেখা করতে পাটের ক্ষেতে ডাকে আরিফা। সেখানে গিয়ে সে পরিকল্পনায় জড়িতদের মোবাইলে মিস কল দেয়। তার ইঙ্গিত পেয়ে সেখানে উৎপেতে থাকে রসিদ, জাহিদ ও আসাদুলও সেখানে উপস্থিত হয়। প্রথমে রশিদসহ অন্যরা পাটের জমিতে পাট দিয়ে মোবারকের হাত পা পেছন থেকে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসময় মোবারক উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে মাটিতে পড়ে গেলে আরিফা মুখ ধরে রাখে। এ সময় মোবারক উপুর হয়ে পড়ে গেলে আসাদুল ও জিহাদ শরীরের উপর চেপে বসে রশিদ পা ধরে রাখে। এ সময় আরিফা নিজে ও আসাদুল মিলে মাটির মধ্যে মোবারকের মুখ চেপে ধরে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
একজন মেয়ের এমন নির্দয়তায় পুলিশ প্রশাসনসহ সকলেই আৎকে উঠেছেন।
এ ঘটনার পর জড়িতদের দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..